ঢাকা, ১৬ মে ২০২৬ — মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা, দেশের ভেতরে লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতির মধ্যেই আসছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটটি এমন একটি সময়ে আসছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশীয় সাবসিডি চাপকে আরও তীব্র করে তুলছে।
অর্থ বিভাগের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাজেটের মোট ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। ডেইলি সানের তথ্যমতে, এই বিশাল ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি মেটানো হবে বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে — মোট ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা আসবে বিদেশি উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকার ঘাটতি মেটাতে ক্রমেই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণ বেসরকারি বিনিয়োগকে সংকুচিত করতে পারে।
যমুনা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাহ্যিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস আরও রক্ষণশীল। বর্তমানে ভোক্তামূল্য সূচক ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় প্রবল চাপ তৈরি করছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, সরকারের প্রথম বাজেটটি এমন একটি সময়ে তৈরি হচ্ছে যখন একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ স্থবিরতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি নবায়নযোগ্য শক্তিতে কর ছাড়, তামাকপণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি এবং কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তায় বাড়তি বরাদ্দের সুপারিশ করেছে।
সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসায়িক সংগঠন, অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাজেট-পূর্ব আলোচনা শুরু করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সমন্বয় পরিষদের বৈঠকে বাজেটের মূল কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আসন্ন বাজেটকে শুধু বিচক্ষণ নয়, ভবিষ্যৎমুখী হতে হবে। বর্তমানকে স্থিতিশীল রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার ভিত গড়তে হবে। সেই লক্ষ্যে রাজস্ব, মুদ্রানীতি ও কাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাই হবে বাজেটের মূল পরীক্ষা।